দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযানে প্রায় ২০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। অবৈধ মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে এবং চারটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসন জানিয়েছে, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় র্যাব-২ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯৬ লিটার অকটেন ও ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করে সতর্ক করা হয়।
নরসিংদীর মাধবদীতে পৃথক অভিযানে প্রায় ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অবৈধ মজুতের অভিযোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নদীতে নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে ৬ হাজার ২০০ লিটার পেট্রোল ও ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথক অভিযানে ১ হাজার ৩৩০ লিটার চোরাই ডিজেল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় দুটি অভিযানে মোট ২ হাজার ৩২০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয় এবং তিনজনকে জরিমানা করা হয়। একই জেলার নেছারাবাদে আরও ৪ হাজার ১৮ লিটার ডিজেল জব্দ করে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের সালথায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পরিবহণের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দ করা তেল বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ৪১২ লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৮২৩ লিটার জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।
মানিকগঞ্জে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়মের তথ্য পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার