বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, আউন্স ৪ হাজার ডলারের কাছাকাছি
ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কমেছে ১.১ শতাংশ
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৭:২১:৫৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৭:২১:৫৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের এই দরপতন দেখা যায়। এদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো স্বর্ণের দাম কমার পথে রয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) প্রত্যাশা অনুযায়ী সুদের হার অপরিবর্তিত রাখে। তবে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য পর্যালোচনা এবং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ রাখতে সুদের হারে পরিবর্তন আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (পিসিই) প্রকাশের কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেড এই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, পিসিইর তথ্য বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও বাড়বে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের লেনদেনকারীরা ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ সুদের প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তবে ফ্রান্সের বন্ডবাজারের অস্থিরতাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
হান তান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার বা তার বেশি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আরও কঠোর মুদ্রানীতির প্রয়োজন হলে স্বর্ণের দাম চলতি বছরের নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে আলোচনার উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করতে চিঠি পাঠানোর পর শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন আশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।