সৌদিতে টানা তৃতীয় দিন হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরব
- আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৫১:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে রিয়াদ ও খামিস মুশাইত অভিমুখে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের বাসিন্দারা একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ আগে মোবাইল ফোনে আকাশপথে হামলার আশঙ্কা জানিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, গোষ্ঠীটি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি খামিস মুশাইতের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি এবং খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার হুথিদের হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। রোববারের আরেক হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। ধারাবাহিক হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা না করারও আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো অনিরাপদ।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোও হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের কর্মীদের এসব এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এসব স্থাপনা এখন হুথিদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
এদিকে, বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এপিকে এ বিষয়ে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের হাতে এমন কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টসহ সৌদি আরবের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হামলার আগে কেন আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছেছিল।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।