রাজশাহী মেডিকেলের এক্স রে মেশিন ৮ মাসেও সচল হয়নি
পোর্টেবল এক্স রে না থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৫:৪৪:০৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৫:৪৪:০৭ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৮ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোর্টেবল এক্স রে মেশিন পুড়িয়ে দেওয়ার আট মাস পরও সেটি মেরামত বা নতুন মেশিনের ব্যবস্থা না হওয়ায় রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি পোর্টেবল এক্স রে মেশিন গত ২৮ জানুয়ারি ভোরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেশিনটি আর ব্যবহার করা যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেশিনটি মেরামতের জন্য ন্যাশনাল ইলেকট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি নতুন মেশিনের চাহিদাও জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ যেসব রোগীকে রেডিওলজি বিভাগে নিয়ে গিয়ে এক্স রে করা সম্ভব হয় না, তাঁদের ওয়ার্ডেই পোর্টেবল মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালে আগে দুটি পোর্টেবল এক্স রে মেশিন ছিল। এর একটি পুরোনো মডেলের হওয়ায় আগে থেকেই নষ্ট ছিল। অন্যটি পুড়িয়ে দেওয়ার পর বর্তমানে হাসপাতালে কোনো সচল পোর্টেবল এক্স রে মেশিন নেই।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মেশিনটি সাধারণত ব্যবহারের পর রেডিওলজি বিভাগে রাখার কথা থাকলেও ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে রাতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নার্সিং ডেস্কের পাশে রাখা হচ্ছিল। ২৮ জানুয়ারি ভোর ৪টা ৮ মিনিটে সেখানে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি এসে মেশিনটিতে আগুন ধরিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে কর্তব্যরত নার্স ও ওয়ার্ড বয় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে মেশিনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যায়। ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পরদিন হাসপাতালের পক্ষ থেকে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় মামলা করা হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে চলে যেতে দেখা গেলেও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আকরাম হোসেন জানান, আসামি শনাক্ত না হওয়ায় আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া যেতে পারে।
ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। তৌফিকুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁরা পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ বলেন, মেশিনটি মেরামতের বিষয়ে নিমিউকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে নিমিউ কর্মকর্তারা রাজশাহীতে এসে মেশিনটি মেরামতের জন্য শিগগির দরপত্র আহ্বানের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন পোর্টেবল এক্স রে মেশিনের জন্যও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন মেশিন সংগ্রহে সময় লাগতে পারে।
এদিকে মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোর পোর্টেবল এক্স রে সেবার পোস্টার দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের পোর্টেবল এক্স রে চালু থাকাকালে বুকের একটি এক্স রের জন্য ফি ছিল ২২০ টাকা। বর্তমানে বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা একই পরীক্ষার জন্য এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। ফলে পোর্টেবল এক্স রে সুবিধা বন্ধ থাকায় রোগীদের বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।