স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল বিএস-১
ভারতের পুরোনো ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এগিয়ে আসায় সতর্কবার্তা
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১০:০৯:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১০:১৬:০৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৭ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) অল্পের জন্য মহাকাশের একটি বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং তথ্যের সরকারি প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্র্যাকার থেকে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে সতর্কবার্তা আসে। এতে জানানো হয়, ভারতের পুরোনো একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসছে।
স্যাটেলাইটের খুব কাছ দিয়ে কোনো বস্তু অতিক্রম করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়। সংঘর্ষ হলে স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে। এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো কসমস-২২৫১ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সচল যোগাযোগ স্যাটেলাইট ইরিডিয়াম-৩৩ মহাকাশে সংঘর্ষে ধ্বংস হয়।
বিএসসিএলের প্রকৌশলীদের হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময় ছিল খুবই কম। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে পরবর্তী চার দিন উদ্বেগের মধ্যে কাটে তাঁদের। রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএলের কার্যালয়ে বুধবার সকালে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই কয়েক দিন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএস-১-কে সরানোর সুযোগও সীমিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং স্যাটেলাইটটি নিরাপদে রক্ষা পেয়েছে।
বিএসসিএল জানিয়েছে, মহাকাশে শুধু সচল স্যাটেলাইট নয়, বিভিন্ন সময়ে উৎক্ষেপণ করা স্যাটেলাইটের অকেজো অংশ, নিয়ন্ত্রণ হারানো মহাকাশযানের অংশসহ নানা ধরনের বস্তু কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। এসব বস্তুকে স্পেস ডেব্রিস বা মহাকাশের বর্জ্য বলা হয়। মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইটের সঙ্গে এসব বর্জ্যের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে স্পেস ট্র্যাকার সতর্কবার্তা দেয়।
এবার বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের বলে সতর্কবার্তা থেকে জানতে পারে বিএসসিএল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) জানিয়েছে, ইনস্যাট-১এ ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। উৎক্ষেপণের কয়েক মাস পরই এতে সমস্যা দেখা দেয় এবং ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
তবে বিএস-১-এর জন্য এ ধরনের ঝুঁকি এবারই প্রথম নয়। বিএসসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২৫ সালেও স্যাটেলাইটটি কাছাকাছি চলে আসা মহাকাশের বস্তুর কারণে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পড়েছিল। ২০২১ সালে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইট বিএস-১-এর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছিল।
২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিএস-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। তখন এর নাম ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এর নাম পরিবর্তন করা হয়। স্যাটেলাইটটি নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হওয়া বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।