এআইয়ের উত্থানে প্রযুক্তি ধনকুবেরদের সম্পদ বেড়েছে ৮৪৫ বিলিয়ন ডলার
প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে সম্পদ বাড়ছে শীর্ষ ধনীদের
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১১:২৮:৪২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১১:২৮:৪২ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত।
২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদে রেকর্ড বৃদ্ধি ঘটেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ৫০০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের প্রায় ১০০ জনের সম্মিলিত সম্পদ বেড়েছে ৮৪৫ বিলিয়ন বা ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
প্রযুক্তি খাতের ধনীদের সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। ব্লুমবার্গের সূচকে তাঁদের সংখ্যা মোট ধনীদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হলেও মোট সম্পদের ৩৬ শতাংশ তাঁদের দখলে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের বাইরে থাকা ধনীদের সম্মিলিত সম্পদ একই সময়ে বেড়েছে ৬২ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। মোট সম্পদ বৃদ্ধির ৯৪ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের কাছ থেকে। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক—২০১২ সালে ব্লুমবার্গ ধনীদের সম্পদ হিসাব শুরু করার পর এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে।
সম্পদ বৃদ্ধির বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে শীর্ষ ধনীদের হাতে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বেড়েছে ৩১০ বিলিয়ন বা ৩১ হাজার কোটি ডলার। ব্লুমবার্গের সূচকে ধনীদের মোট সম্পদ বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশই এসেছে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে। সোমবার তিনি আবার ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন।
বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ জুনের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। পরে বিশ্ববাজার এবং এআই খাতের কয়েকটি বড় কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় তা প্রায় ৬ শতাংশ কমে ১২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে নয়জনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের। ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ এ বছর ৮১ শতাংশ বেড়ে ২৫৪ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির ডেটা সেন্টার ব্যবসার দ্রুত প্রবৃদ্ধি তাঁর সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের সম্পদও এ বছর ২৩ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বাড়ে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে কোম্পানিটির অন্যতম বড় মাসিক উত্থান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন ব্যক্তিগত সহকারী ‘মিউজ’ চালুর পর মেটার শেয়ারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
তবে এআই ব্যবসা সম্প্রসারণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ঋণ নেওয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ল্যারি এলিসন অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছিলেন। সে সময় এক দিনেই তাঁর সম্পদ ৮৯ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বেড়েছিল। এআই-সংশ্লিষ্ট ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবসায় দ্রুত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের পর ওরাকলের শেয়ারের দাম বাড়ায় তাঁর সম্পদেও বড় উল্লম্ফন ঘটে।
এক বছর পর অবশ্য এলিসনের সম্পদ ১৯৬ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার কমেছে। একই সময়ে ওরাকলের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে এবং কোম্পানিটির ঋণখেলাপির ঝুঁকির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ নেওয়ার ব্যয় প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এআইয়ের উত্থানে শুধু বড় প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বা নির্বাহীরাই লাভবান হচ্ছেন না। এআই অবকাঠামো সরবরাহকারী কোম্পানির উদ্যোক্তারাও দ্রুত সম্পদশালী হচ্ছেন। অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন ৯৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর এর সাত সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্লুমবার্গের ধনীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। চীনের ডিপসিক ও মিনিম্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতারাও এআইয়ের বিস্তারে সম্পদ বাড়িয়েছেন।
এ ছাড়া এআই পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সার্ভার, চিপ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ায় তাইওয়ান ও চীনের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকেরাও লাভবান হচ্ছেন। স্যামসাংয়ের উত্তরাধিকারী পরিবার এবং টিএসএমসি ও মিডিয়াটেকের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে এআইয়ের উত্থান শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির মালিকদের নয়, পুরো প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থায় নতুন ধনকুবের তৈরির পথও তৈরি করছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।