সবজিতে কীটনাশক ও ভারী ধাতু, কতটা নিরাপদ খাবার?
উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত নানা ধাপে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৯:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৯:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ক্ষেতে উৎপাদনের পর প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে পৌঁছাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। তবে উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সবজির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বেগুন, শশা ও টমেটোসহ কয়েক ধরনের সবজিতে অনুমোদিত সীমার বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বেগুনে পোকা বা রোগবালাই দেখা দিলে কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে অনেক কৃষক স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করেন। গ্রাম পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ না পাওয়ায় এসব দোকানদারই অনেক সময় কৃষকদের প্রধান পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন কোম্পানির পরামর্শের ভিত্তিতে তারা কৃষকদের কীটনাশক সরবরাহ করেন। এসব কীটনাশকের মধ্যে ম্যানকোজেব ও কারটাপ গ্রুপের রাসায়নিকও রয়েছে, যেগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ক্ষেত থেকে তোলা সবজি প্রথমে কৃষকের বাড়িতে নেওয়া হয়। বাছাই শেষে তা বস্তায় ভরে স্থানীয় আড়তে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ধাপ। রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে দেখা গেছে, নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পানিতে শাক-সবজি ধোয়া হচ্ছে। ভোর থেকে সারা সকাল পর্যন্ত এভাবে সবজি পরিষ্কারের কাজ চলে। পরে সেই সবজিই বিভিন্ন দোকানের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বাজারে গিয়ে শুধু দেখে সবজিতে কীটনাশক বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি বোঝার সুযোগ নেই। অনেক ভোক্তা মনে করেন, বাড়িতে এনে ভালোভাবে ধুয়ে বা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সব ক্ষতিকর উপাদান দূর হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ধোয়া বা ভিজিয়ে রাখলেই সব ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পুরোপুরি দূর হয় না।
খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সাধারণত কীটনাশক দেওয়ার পর সাত দিন অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহের কথা থাকলেও অনেক কৃষক তিন দিনের মধ্যেই সবজি বাজারে নিয়ে আসেন। এতে অবশিষ্ট কীটনাশক শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, কীটনাশক ব্যবহার করা হলেই সবজি বিষাক্ত হয়ে যায়—বিষয়টি এমন নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নির্ধারিত নিয়ম না মানা এবং ফসল সংগ্রহের আগে প্রয়োজনীয় সময় অপেক্ষা না করলে ঝুঁকি বাড়ে। ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কৃষক পর্যায় থেকে শুরু করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।