সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করতে পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলন, ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন চালু এবং পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার মতো একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ১১টি আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পর্ষদে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস নামে চারটি স্কিম চালু রয়েছে। কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীদের পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট কর্মসূচিটি চালু করা হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চালুর প্রায় তিন বছর পর চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সমতা স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। প্রবাস স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন, যার মধ্যে নারী ৯৭ জন। এই স্কিমে মোট জমার পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে ব্যাংকের আমানতের তুলনায় তুলনামূলক কম রিটার্ন এবং পেনশন পাওয়ার আগে তাৎক্ষণিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।
বর্তমান নিয়মে কোনো গ্রাহক স্কিমে যুক্ত হওয়ার পর তা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। নতুন প্রস্তাবে পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। বর্তমানে চাঁদাদাতা মারা গেলে তাঁর নমিনি সর্বোচ্চ ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পান, যদি চাঁদাদাতা ৭৫ বছর বয়সের আগে মারা যান।
এ ছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পর্ষদ বৈঠকে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর জমা করা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সর্বজনীন পেনশনের ইসলামিক ভার্সন চালু এবং গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে মাসিক ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পেনশন তহবিলের জন্য রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবগুলো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সেগুলোর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধনের জন্য ইউপেনশন ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীকে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা বা প্রবাস স্কিমের একটি নির্বাচন করে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মুঠোফোন নম্বর ও ইমেইল দিতে হয়। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে মুঠোফোন ও ইমেইলে পাওয়া ওটিপি দিয়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।