যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, বন্ধ হচ্ছে ব্রিটিশ কনস্যুলেট
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জেরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দুই দেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে কয়েক দশকের মধ্যে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় টানাপোড়েনগুলোর একটি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এসব বসতিতে উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির বড় অংশ না হলেও সেগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হতো। অন্যদিকে গত বছর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারের কাজ ছিল গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।
বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে আসছে। তবে এত দিন এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ দখলদারত্বকে বেআইনি বলে রায় দেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত হয়েছিল।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে বেআইনি মনে করার বিষয়টি দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। নতুন ব্যবস্থার আওতায় শুধু পণ্য আমদানিই নয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থায়নে সহায়তাকারী কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দখলদারত্ব এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করতে পারে এমন অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
মিলিব্যান্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনিদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে এবং ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
যুক্তরাজ্য সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বিষয়ে নেওয়া এসব পদক্ষেপ দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা। অন্যদিকে ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ দেখিয়েছে, বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ উত্তেজনা তৈরি করেছে।