মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতের বিরোধ পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বৈঠক শেষে পেজেশকিয়ান বলেন, সংকট শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নানা ঘটনা ঘটলেও আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে তাদের আলোচনা ছিল গঠনমূলক। অতীত পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা আঞ্চলিক কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষোভ নেই। তাদের মূল উদ্বেগ এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যেগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমিরাতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো ইরানের ভাইয়ের মতো। দীর্ঘদিন ধরে দেশগুলোর মধ্যে পাশাপাশি বসবাস, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনো দেশের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বৈঠক নিয়ে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে বৈঠক করলে তাতে তার কিছু যায় আসে না।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রণালিটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত মাসে ইরানের সঙ্গে অর্থ ও বাণিজ্যিক লেনদেন স্থগিত করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পাল্টা জবাবে আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দিল্লিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।