সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হাঁসের খোপ খুলতে গিয়ে বিশাল অজগর দেখে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন এক গৃহবধূ। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের সদস্যরা প্রায় ১১ ফুট লম্বা অজগরটি উদ্ধার করে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করেন।
বুধবার ২ সেপ্টেম্বর সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূর খোপে নয়টি হাঁস ছিল। সকালে খোপের দরজা খুললে তিনটি হাঁস বের হয়ে এলেও বাকিগুলো বের হচ্ছিল না। পরে ভেতরে উঁকি দিয়ে তিনি বিশাল অজগরটি দেখতে পান। পাশে একটি মৃত হাঁস পড়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।
গৃহবধূর স্বামী মোক্তার গাজী জানান, স্ত্রীর চিৎকার শুনে তিনি ছুটে আসেন। পরে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বন বিভাগকে খবর দেন। সকাল ৯টার দিকে বন বিভাগের সদস্য ও সিপিজির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটি উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল সানা জানান, অজগরটি দুটি হাঁস খেয়েছে এবং আরেকটি হাঁসকে পেঁচিয়ে ধরেছিল। তার ধারণা, বাড়ির পাশের সুন্দরবন থেকে নদী সাঁতরে এসে অজগরটি খোপের ওপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ঢুকে থাকতে পারে।
উদ্ধারে অংশ নেওয়া সিপিজির সদস্য জুলেখা বেগম জানান, অজগর উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়, যাতে কেউ কাছে গিয়ে বিরক্ত না করে। পরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিরাপদে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন জানান, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি। এটি সুস্থ ছিল। খাঁচায় রাখার সময় অজগরটি গিলে ফেলা দুটি হাঁস মুখ দিয়ে বের করে দেয়। পরে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে সেটিকে অবমুক্ত করা হয়।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, খাবারের সন্ধানে অজগরটি সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। লোকালয়ের বাড়িঘরে ঢুকে অজগর সহজেই হাঁস মুরগি শিকার করতে পারে।
তিনি বলেন, বন্য প্রাণী রক্ষায় মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। আগে লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে অনেকে সেটিকে মেরে ফেলতেন। এখন বন বিভাগকে খবর দেওয়ায় অনেক বন্য প্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।