তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে ভারতের বড় প্রত্যাশা
আলোচনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ-ভারতের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব: ভারতীয় হাইকমিশনার
- আপলোড সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-০৯-২০২৬ ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, আলোচনা অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব। বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনার কোনো শেষ নেই। তাঁর মতে, আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলে গণতন্ত্রের মূল চর্চাই বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি আলোচনার ধারাবাহিকতাকে গঙ্গা বা পদ্মার মতো প্রবহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি তারেক রহমানকে প্রজ্ঞাবান ও জনমুখী নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে এ সফর থেকে ইতিবাচক কিছু অর্জিত হবে বলে তিনি আশা করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, স্পিকার একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন ক্রীড়া বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রয়াত ফুটবলার চুন্নী গোস্বামী থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ পর্যন্ত নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।
দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ বা মৈত্রী গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তাঁর মতে, দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় দুই দেশের গণতান্ত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এ সময় ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। পাশাপাশি তাঁদের ভারতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন এবং সেখানকার কার্যক্রম দেখার আমন্ত্রণও জানান তিনি।
বৈঠকে ভারতীয় সংসদের আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের সংসদের কার্যক্রম বর্তমানে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে সংসদ সদস্যদের কাগজভিত্তিক নথির ওপর নির্ভরতা কমেছে। জওহরলাল নেহরু থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত বিভিন্ন নেতার বক্তব্যসহ পুরোনো নথি ও তথ্য ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য, চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলাধারের প্রশংসা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, সংসদ ভবনের পরিবেশ তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষের মন ভয়হীন ও মুক্ত। এমন পরিবেশ সংসদের কার্যক্রমের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।