তিনি বলেন, “মানবতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নিরাপত্তার অভিন্ন শত্রুতে পরিণত হওয়া নেতানিয়াহু, আমি জোর দিয়ে বলছি, নেতানিয়াহু একজন খুনি, একজন গণহত্যাকারী। এই পর্যায়ে সে সত্যিকার অর্থে একজন মানুষ নয়।”
সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসরাইল তুরস্ককে ‘কৌশলগত হুমকি’ হিসেবে দেখছে, এমন বক্তব্যের বিষয়ে হাকান ফিদান বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর থেকেই নেতানিয়াহু সরকার, বিশেষ করে নেতানিয়াহু ও তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে বক্তব্য ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এবং আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে লক্ষ্য করে তাদের অবস্থান রয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বিষয়টি অনুসরণ করছি।”
ফিদান বলেন, নেতানিয়াহুকে মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার।
তিনি বলেন, “শুধু তুরস্কের জন্য নয়, পুরো বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যই নেতানিয়াহু, তার মানসিকতা এবং তার সঙ্গে চলা গণহত্যাকারী গোষ্ঠী একটি হুমকি তৈরি করছে। এটিকে শুধু তুরস্কের সমস্যা হিসেবে ভাবা একটি বড় ভুল।”
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন পর্যন্ত যে দায়িত্ব পালন করা হয়নি, তা পালন করে এই খুনি, এই গণহত্যাকারীকে থামাতে হবে। এই গণহত্যাকারী যেন অঞ্চল, ইসরাইল, ইহুদি জনগোষ্ঠী এবং পুরো বিশ্বের ক্ষতি করতে না পারে, তা এখন বন্ধ করা প্রয়োজন।”
ফিলিস্তিনি ও মুসলমানদের রক্ত ঝরানোর প্রসঙ্গ তুলে ফিদান বলেন, “ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরানো এবং মুসলমানদের রক্ত ঝরানোয় আনন্দ পাওয়া এই খুনিকে এখন থামাতে হবে। বিষয়টি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা ইসরাইলের জন্যও বড় ক্ষতি, ফিলিস্তিনিদের জন্য তো বটেই, একই সঙ্গে অঞ্চলের জন্যও বড় ক্ষতি।”
নেতানিয়াহুর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে চলমান দখলদারিত্বের অবসান চান না বলেও উল্লেখ করেন ফিদান।
তিনি বলেন, “সে গণহত্যাকারী ও দখলদারিত্বমূলক অবস্থানের ধারাবাহিকতা চায়। এমন একটি অবস্থানের ধারাবাহিকতা চায়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।”
হাকান ফিদান আরও বলেন, “এখন এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও বড় হুমকি। এই হুমকির বিরুদ্ধে, এই নেতানিয়াহু হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে লড়াই করতে হবে বন্ধুরা। এটাই আমার বার্তা।”
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি