গত বছরের ৩০ নভেম্বর এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত এসব ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এখনো চাহিদা অনুযায়ী জমা রাখা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। তবে এই সংকটের মধ্যেও ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ থেমে থাকেনি।
হাতে আসা তথ্য বলছে, একীভূত প্রক্রিয়ায় আসার পর থেকে চলতি বছরের ২ জুন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ১২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আমানতকারীরা তাদের আমানতের বিপরীতে ঋণ পেয়েছেন ৩৫৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকটি একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় ২ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে দেড় শ’ কোটি টাকা আমানতকারীরা তাদের জমা রাখা টাকার বিপরীতে ঋণ পেয়েছেন।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা আমানতের বিপরীতে ঋণ পেয়েছে ৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া, ১২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। গ্লোবাল ইসলামী ৯২ কোটি ও ইউনিয়ন ব্যাংক গেল ২ জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২৩ কোটি টাকা।
সংকটকালীন সময়ে পাঁচ ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সমালোচনা করছেন খাত বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘এই ঋণ বিতরণকে আমি ভালো চোখে দেখছি না। কোনোভাবেই পাঁচ ব্যাংকের ঋণ বিতরণ করা ঠিক হয়নি। হয়তো তারা নিজেদের লোকজনকে ঋণ দিয়েছে। একদিকে তো তাদের তারল্য নেই, মূলধনও সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ঋণ বিতরণের অনুমোদন কীভাবে দিল? যেখানে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেখানে ঋণ বিতরণ অনৈতিক ব্যাংকিং।’
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্বাভাবিক ব্যাংকিং চালু রাখতেই ঋণ বিতরণ করেছে একীভূত পাঁচ ব্যাংক। সংস্থাটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান স্টার নিউজকে বলেন, ‘এই ব্যাংককে ভালো কিছু গ্রাহকও ছিল। তাদের নার্সিং করা গেলে ব্যাংকগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারে। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলতে পারে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত না দিয়ে কেন নতুন বিনিয়োগ করা হচ্ছে? বিনিয়োগ করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, অর্জিত মুনাফা দিয়ে যেন অধিক সংখ্যক আমানতকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায়। ব্যাংক হিসাবে টিকে থাকতে হলে শুধু আমানতকারীদের স্বার্থ নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে হবে। তা না হলে ব্যাংক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’