লক্ষ্য আছে সরকারের। হয়ত কিছুটা উচ্চাভিলাষী। কিন্তু দীর্ঘামেয়াদে আমাদের উচ্চাভিলাষী হতেই হবে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদেশি বিনিয়োগে হতে যাওয়া বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামবাসীর হৃদয় হল বন্দর। এখানে সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্দর ঘিরেই হয়। আমাদের আছে একটি নির্বাচিত সরকার।
তিনি বলেন, অর্থনীতি পরিচালিত হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। সরকারের কাজ তাদের সহযোগিতা করা। আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা নীতি, বিনিয়োগ নীতি ও লজিস্টিক সাপোর্ট থাকতে হবে। চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এই অঞ্চলের জন্য।তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনাকে পুরোদমে কাজে লাগাতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আশাকরি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই টার্মিনালের কাজ শেষ হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। বিশ্বের জন্য আমরা দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই। শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, সবরকম বিনিয়োগের জন্য।
এটার সাথে আরো কয়টি পোর্ট করতে যাচ্ছি। চট্টগ্রামে আরো কয়টি ইকোনমিক জোন হবে। চট্টগ্রামের মানুষের যে প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। বাণিজ্যিক রাজধানী কেউ করে না, বাণিজ্যিক রাজধানী হয়। এসমস্ত কাজের মাধ্যমে যখন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাড়বে সেটাই হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।"
চট্টগ্রামের যে সম্ভাবনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আজকের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আজ নতুন অধ্যায়। কারণ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও টার্মিনাল হ্যান্ডলিং এর নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছি। পিপিপিতে অনেক বড় বিনিয়োগ।
প্রতি বছর ৮ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হব। সঙ্গে অনেক আধুনিক সুবিধা থাকবে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা আজ হতে চলেছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক করার এ অগ্রযাত্রা শুরু হচ্ছে। আরো অনেকের আগ্রহ আছে। দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা চলছে।
লালদিয়া আধুনিক টার্মিনাল কিভাবে পরিচালনা করতে হয় সেটার পথও আমাদের দেখাবে। এটি বাস্তবায়নে যত সহযোগিতা প্রয়োজন তা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মোলার (Christian Brix Møller) বলেন, ডেনমার্ক বাংলাদেশের ঘনিষ্ট অর্থনৈতিক অংশীদার। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে একসাথে কাজ করতে আমরা সবসময় আগ্রহী।
লালদিয়া টার্মিনালের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বার্তা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত। এপিএম টার্মিনালসের সিইও রমেশ ডেভিড বলেন, এটি অনেক প্রথমের একটি প্রকল্প। প্রথম পিপিপি, প্রথম সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল। এখানে আমরা নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করব।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯৫ শতাংশ হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বিশ্বব্যাপী বন্দর ব্যবস্থাপনা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে আমরা পিছিয়ে যাব। বন্দর ব্যবহারকারীদের সময়োপযোগী সেবা দিতে আমাদের আধুনিক ও গ্রিন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হচ্ছে।
"এপিএম টার্মিনালস আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ। তিন বছরের মধ্যে আপনারা লালদিয়াতে এর প্রতিফলন দেখবেন। এটিই ২৪/৭ সচল প্রথম টার্মিনাল হতে চলেছে। আমাদের বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়বে লালদিয়া টার্মিনালে।"
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মমন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের গ্লোবাল হেড অব অপারেশনস জ্যাক ক্রেগ (Jack Craig)।