ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের,হুতিদের অস্বীকার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ চালুর পরিকল্পনা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়: 'অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ' চালুর ঘোষণা মিরপুরের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেভা ক্যাম্পের পিচ্চি রাজা: সোর্স থেকে মাদক কারবারের শীর্ষে এআই অসৎ লোকের হাতে পড়লে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণ যেতে পারে: বিল গেটস জানুয়ারির অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকৃবির ১০ তলা হলে লিফট নেই, না খেয়েই দিন কাটছে ছাত্রীদের

পেজেশকিয়ান: শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চায়

যুদ্ধের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে ইরানের জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১০:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১০:৫১:৩৬ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৯৯ বার পঠিত
পেজেশকিয়ান: শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চায় ছবি সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ একসময় শেষ করতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বর্তমান পরিস্থিতিতে শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে থেকেই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি। তার দাবি, বিশ্ব এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের নেতিবাচক দিকগুলো স্বীকার করছে এবং এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরানের মেডিকেল কমিউনিটির ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের ৩১তম সাধারণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত থামাতেই হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ থাকলে সেটিই ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থান বজায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধের অবসান ঘটানো দেশটির জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন উপেক্ষা করে ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইরানের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও বড় চাপ তৈরি করেছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান দেশের অভ্যন্তরে জনঅসন্তোষের বিষয়টিও তুলে ধরেন। যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা ইরানের অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব পড়ায় সাধারণ মানুষের জন্য দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে অসন্তোষ বা ক্ষোভ তৈরি হলে সেটি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার যথাযথভাবে কাজ করতে পারেনি—এমন বাস্তবতাও এর মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে যুদ্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বন্দর ও সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। তার মতে, এসব পদক্ষেপ ইরানের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

জ্বালানি ভর্তুকি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সরকার যদি প্রতি লিটার পেট্রোল ১ লাখ ৩০ হাজার তুমান দরে কিনে মাত্র ১ হাজার ৫০০ তুমানে বিক্রি করে, তাহলে এ ধরনের ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে। তার মতে, জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির কারণে সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অর্থায়নের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে খাদ্য ভর্তুকি, বীমা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অর্থের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেন পেজেশকিয়ান। এসব কর্মসূচির অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হলে শ্রমিক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সরকারি কর্মচারীদের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে যুদ্ধের সামরিক দিকের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও ইরান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৮

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।