ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ , ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সে রেকর্ড তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল: প্রাণ হারালেন ৭ হাজারের বেশি ট্রাম্পের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের ভূখণ্ড’ দাবি ইরানের জ্বালানি তেলের মজুত ৬ মাসে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকারের ৫০তম বিসিএসের দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ বায়তুল মোকাররমে এসি স্থাপনের নামে মূল আর্চ ভাঙার অভিযোগ ব্যাটারিচালিত রিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান জ্বালানি সংকট কাটাতে সরাসরি ক্রয়ে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন এক্সিলারেটের টার্মিনালে এলএনজি শেষ, ফের গ্যাস সরবরাহে সংকট উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসা ছাত্র সংঘর্ষ আরব আমিরাতে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ভারতে শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত: ইসরায়েল ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন ভাসল নৌকা: অনাহারে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু বিএনপি সরকারের ৬ মাস: অর্থনৈতিক অবস্থা চাপে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ মতবিনিময় সভা ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব ইরানের সেনাপ্রধানের চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের ধাক্কা: বড় ধরনের ক্ষতি নেই জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটে ট্রাম্প প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, দাবি গালিবাফের অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফর নয়, জানাল বাংলাদেশ

২০ রুপি ঘুস নেওয়ায় ৩০ বছরের আইনি লড়াই, খালাস পেলেন দুই সরকারি কর্মচারী

ঘুষের দাবি প্রমাণিত না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হলো আগের সাজা; ১৯৯৬ সালের মামলার অবসান।
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১১:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১১:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১০ বার পঠিত
২০ রুপি ঘুস নেওয়ায় ৩০ বছরের আইনি লড়াই, খালাস পেলেন দুই সরকারি কর্মচারী ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শুরু হওয়া একটি মামলার আইনি লড়াই শেষ হয়েছে প্রায় ৩০ বছর পর। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গুজরাট সরকারের দুই কর্মচারীর দণ্ড বাতিল করে তাদের খালাস দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
 
বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বলেন, ঘুসের দাবি প্রমাণিত না হলে শুধু ২০ রুপি উদ্ধার হওয়ার ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
 
মামলাটির সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। শিক্ষাগত সুবিধা পাওয়ার জন্য আয় সনদ নিতে আনন্দ জেলার বেচারি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়েছিলেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগ ওঠে, সনদ দেওয়ার বিনিময়ে পঞ্চায়েতের এক কেরানি তার কাছে ১২০ রুপি দাবি করেন। এর মধ্যে ১০০ রুপি নিজের জন্য এবং ২০ রুপি পিয়নের জন্য চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করে প্রসিকিউশন।
 
পরে দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে (এসিবি) অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ফাঁদ পাতে এবং শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা ১২০ রুপি দিয়ে অভিযুক্তদের কাছে পাঠায় ভারতের এসিবি।
 
আয় সনদ পাওয়ার পর পিয়নকে ২০ রুপি দেন শিক্ষার্থী। অভিযানের সময় ওই ২০ রুপি পিয়নের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কেরানির কাছ থেকে ১০০ রুপি উদ্ধার করা যায়নি।
 
মামলাটি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান সুপ্রিম কোর্ট। আদালত উল্লেখ করেন, অন্য একটি ঘটনায় শিক্ষার্থী ঘুসের দাবির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রথমে ২০০ রুপি দাবি করা হয়েছিল এবং পরে ১২০ রুপিতে সমঝোতা হয়। কিন্তু বিচারিক আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
এছাড়া, এসিবি শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ঘুসের দাবি করা হলে পুরো ১২০ রুপি দিতে। কিন্তু বাস্তবে তিনি শুধু ২০ রুপি পিয়নকে দেন। আদালত প্রশ্ন তোলেন, কেরানি যখন পিয়নের পাশেই ছিলেন, তখন কথিত ২০ রুপি দেওয়ার পর বাকি ১০০ রুপি কেন দেওয়া হলো না?
 
জেরার সময় শিক্ষার্থী নিজেই স্বীকার করেন যে পিয়ন তার কাছে কোনো ঘুস দাবি করেননি। আদালত আরও লক্ষ্য করেন, আয় সনদ পাওয়ার পরেই শিক্ষার্থী পিয়নকে ২০ রুপি দেন। এসব পরিস্থিতি প্রসিকিউশনের দাবিকে সন্দেহের মুখে ফেলে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
 
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ২০ ধারার আইনি অনুমানের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করেন। বেঞ্চ বলেন, ঘুষের প্রাথমিক দাবি প্রমাণিত না হলে শুধু পিয়নের কাছ থেকে ২০ রুপি উদ্ধারের ঘটনা প্রসিকিউশনের অভিযোগকে সমর্থন করে না।
 
পিয়নের দাবি ছিল, ঈদের পরদিন হওয়ায় শিক্ষার্থী তাকে ২০ রুপি দিয়েছিলেন। আদালতের কাছে এই ব্যাখ্যাও প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ঘটনার তুলনায় বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়েছে।
 
এছাড়া, কেরানির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার অনুমোদনও আদালত বৈধ মনে করেননি। কারণ, অনুমোদনটি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব ছিল না।
 
সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আদালত ও গুজরাট হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে চলা ২০ রুপির ঘুসের মামলায় দুই সরকারি কর্মচারী— কেরানি ও পিয়নকে খালাস দেন সর্বোচ্চ আদালত।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।