জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করে নিউইয়র্কে অবস্থানের অভিযোগে ইরানের দুই কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান বলছে, তাদের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে নিউইয়র্কে অবস্থান করেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন পুনরায় দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরে একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে দেশ ছাড়েন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবিতে আপত্তি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন এবং বিষয়টি আগেই মার্কিন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একাধিক সুযোগ দিয়েছেন। তবে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ দাবি করলেও এর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। মার্কিন অবরোধও কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ নজরদারি বিমান শনাক্ত করার পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিতে আঘাত হেনেছে।