ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে হোটেলটির নিচতলায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শ্রাবণ মাসের বিশেষ পূজা উপলক্ষে নিহতরা তারাপীঠ মন্দিরে গিয়েছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ‘বিদেশীনি’ নামের হোটেলটির নিচতলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি এনসিবি বা মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুন দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতর অন্ধকার ও শ্বাসকষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেকেই কক্ষের মধ্যে আটকা পড়েন। হোটেলে শিশুদেরও অবস্থান ছিল বলে জানা গেছে।
হোটেলটির অবস্থান তারাপীঠ থানার কাছেই হওয়ায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তারাপীঠ থানার পাশাপাশি রামপুরহাট থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল জানান, রাতপাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে এর মধ্যেই হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন। হোটেলের পেছনে বের হওয়ার একটি দরজা থাকলেও অনেকে সেটি খুঁজে পাননি। ফলে বেশিরভাগ অতিথি রিসেপশনের দিক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ সময় কয়েকজন আগুন ও ধোঁয়ার কারণে দগ্ধ হন।
আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।