ট্রুথ সোশালে তিনি এও বলেছেন, ইরানকে ‘পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সম্প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
ট্রাম্প লিখেছেন, এই মহড়াগুলো কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং এগুলো এমন বার্তা দেয়, যা পুরোপুরি ‘অনুপযুক্ত ও শত্রুতায় ভরা’। আর মহড়ার বড় অংশের খরচ বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র বহন করে।
সিউল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক মহড়া ‘নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী’ চলবে। পিয়ংইয়ং এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক সামরিক মহড়া সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। তার আগের দিন ট্রাম্প সোশাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, মহড়া বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে ইতোমধ্যে ‘অনেক দেরি হয়ে গেছে’।
তিনি বলেন, “যদিও বিষয়টি কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক (?), আমি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার কাজে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান কি না। তারা বলেছে, ‘না ধন্যবাদ!’”
ট্রাম্প এ মন্তব্য করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে ২০১৮ সালে নিজের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের একটি পুরোনো ছবি পোস্ট করেন।
ছবিটির বিষয়ে তিনি লিখেছিলেন, এই ছবিতে বন্ধুত্বপূর্ণ না দেখালেও তারা দুজন ‘দারুণ বন্ধু’।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নেতারা গত সপ্তাহে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার ঘোষণা দেন।
তারা বলেন, ১১ দিনের এই মহড়া আগের বছরগুলোর মতই হবে। প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা তাতে অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে সামরিক নেতারা ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গও তোলেন।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা উত্তর কোরীয় সেনাদের কথা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রায়ান ডনাল্ড বলেন, “আমাদের প্রশিক্ষণে ওই হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।”
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ বর্ণনা করে নিন্দা জানায়।
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শনাক্ত করে। এর পরপরই এ যৌথ সামরিক মহড়া হতে যাচ্ছে।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে কিমের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা জোরদার করেছে।
সাত বছর আগে ট্রাম্পই প্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের ওই পোস্টে সিউলের জন্য মিশ্র বার্তা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া একদিকে ট্রাম্পকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করে আসছে। ফলে ওই পোস্টে এ আশা তৈরি হয়েছে যে, তিনি হয়ত কিমকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পারবেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট।
জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ অন্য মিত্র দেশগুলোও এই সংঘাতে জড়াতে অনীহা দেখানোয় ট্রাম্প তাদের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার আকার কমানোর সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়।
কিমের সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার সময় ২০১৮ সালে তিনি এই মহড়া পুরোপুরি স্থগিত করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বার্ষিক এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার জন্য ‘উসকানিমূলক’ এবং ‘যুদ্ধের মহড়া’ বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ সাশ্রয় হবে।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ও মহড়ার পরিসর কমানো হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন, যাতে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া দুই কোরিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়।
ট্রাম্প অতীতে একাধিকবার বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে নিরাপত্তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অথচ এর বিনিময়ে তেমন কিছু পাচ্ছে না।
তিনি কোরীয় উপদ্বীপে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার সংখ্যা এবং তাদের পেছনে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সিউলের সম্পর্ক জটিল হয়েছে। কারণ সিউল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার জোটের মূল ভিত্তি হিসেবে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিকে দেখে।
চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের জন্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং গত বছর ট্রাম্পকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।