সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে জাপোরিঝিয়া শহরে। সেখানে উত্তর কোরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন ও গাইডেড বোমার আঘাতে নিহত ৭ জনই ছিলেন জাপোরিঝস্টাল ইস্পাত কারখানার কর্মী। নিহতরা সাইরেন শুনে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছিলেন। হামলায় আহত হন আরও ২১ জন।
এছাড়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে ৩ জন, সুমিতে ১ জন ও ওডেসায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিয়েভে শিশু ও সংক্রামক হাসপাতালে আঘাত হানলেও সবাই আশ্রয়ে থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। খেরসন ও খারকিভে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে রাশিয়ার দাবি, তারা কেবল সামরিক ও লজিস্টিক কেন্দ্রেই নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেলগোরোডেও এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩০ থেকে ৫০ হাজার সেনা পেতে যাচ্ছে মস্কো। এর আগে কুরস্ক অঞ্চলেও কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের চুক্তির পর এই সামরিক সখ্যতাকে জাতিসংঘের নিয়মের লঙ্ঘন বলছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে সেনাসংকট মেটাতেই এমন পদক্ষেপ। তাই মিত্রদের কাছে জরুরি আকাশ প্রতিরক্ষা চেয়েছেন জেলেনস্কি।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষার তীব্র সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। বাধ্য হয়ে তারা পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল ও ই-কমার্স স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, এই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনায় ইউক্রেনে ২০২২ সালের পর এখন সর্বোচ্চ বেসামরিক প্রাণহানি ঘটছে।