রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের কাছে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার (৩ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সরবরাহের জন্য সংসদ সচিবালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর নির্বাচনের তারিখ ও শিডিউল নিয়ে আলোচনা হবে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকেই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেন না। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। এ কারণে সংসদ সদস্যদের তালিকাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইসি সচিব। তিনি জানান, এনআইডি সংশোধন বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটির সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত কাঠামোয় আলোচনা হলেও সংশোধনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা হয়নি।
জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, একজন আবেদনকারীর কাঙ্ক্ষিত জন্মতারিখ গ্রহণ করা হলে তার ভোটার হওয়ার বয়স নিয়েও অসংগতির প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে তথ্যের সামঞ্জস্য ও নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, আর এনআইডি হলো জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত নথি। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্যের ওপর এনআইডি কর্তৃপক্ষ নির্ভর করে এবং পরবর্তীতে পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য ব্যবহৃত হয়। ফলে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা বা ‘চেইন’ বজায় রাখা জরুরি।
ডেস্ক রিপোর্ট