প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএনগ্যাজেটকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন জেলা বিচারক ডোনোভান ফ্র্যাঙ্ক বলেন, আইনটি কার্যকর হলে এক্সএআই তাৎক্ষণিকভাবে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে, এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, আইনটি পাস হওয়ার প্রায় তিন মাস পর এবং কার্যকর হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এক্সএআই আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে আইনটির কার্যকারিতা স্থগিত করার মতো পর্যাপ্ত কারণ তিনি দেখেননি।
তবে এ মামলার কার্যক্রম এখানেই শেষ নয়। আইনটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে কি-না, সে বিষয়ে আগামী ১৯ আগস্ট শুনানি হবে।
নতুন আইনে কী বলা হয়েছে?:
এআই ব্যবহার করে কারও অনুমতি ছাড়া বাস্তবসম্মত অন্তরঙ্গ বা নগ্ন ছবি তৈরি করতে পারে—এমন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ব্যবহারকারী যদি এমন ছবি তৈরি করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপের নির্মাতাকে প্রতিটি ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে।
কোনো ব্যক্তির আসল ছবিতে অন্তরঙ্গ অংশ না থাকলে এবং এআইয়ের মাধ্যমে এমনভাবে যুক্ত করা হয়, যা দেখে সাধারণ মানুষ সেটিকে সত্যি বলে মনে করতে পারেন, সেটি ভুয়া অন্তরঙ্গ ছবি হিসেবে গণ্য হবে।
এক্সএআই কেন আপত্তি জানিয়েছে?:
এক্সএআই বলছে, সম্মতি ছাড়া এআই দিয়ে ভুয়া নগ্ন ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেয়া বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে তাদের দাবি, মিনেসোটার আইনটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। এতে বৈধ মতপ্রকাশ ও সৃজনশীল কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির আরও দাবি, আইনটি বাক্স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
কেন আলোচনায় গ্রোক?:
ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী গ্রোক চলতি বছরের শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়ে। অভিযোগ ছিল, ব্যবহারকারীদের অনুরোধে এটি বাস্তব নারী ও শিশুর ছবি পরিবর্তন করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরি করতে পারছিল।
পরে প্রতিষ্ঠানটি নীতিমালায় পরিবর্তন আনে এবং এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানোর কথা জানায়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরবর্তী সময়ে আবারও অভিযোগ উঠেছে।
মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এআই দিয়ে সম্মতি ছাড়া ভুয়া অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সেই ঝুঁকি কমাতেই নতুন আইন তৈরি করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট