প্রথমত,
নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্তরে জাগ্রত রাখতে হবে। নামাজে যে সূরা ও আয়াতগুলো পড়া হয়, সেগুলোর অর্থ ও মর্ম বুঝে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া কুরআনের প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা আছে, তাকেও নামাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, নামাজের আগে কিছুক্ষণ দুনিয়াবি চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে। ওযু যথাযথভাবে করা, নামাজের জন্য তাড়াহুড়ো না করা এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু-সিজদা আদায় করা খুশু অর্জনে সহায়ক।
তৃতীয়ত, নামাজে মন অন্যদিকে চলে গেলে হতাশ হওয়া যাবে না। বরং যখনই মন অন্যদিকে চলে যাবে, তখন পুনরায় কিরাআত ও নামাজের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে।
চতুর্থত, নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখার জন্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করতে হবে। মানুষের প্রশংসা কিংবা অন্য কোনো পার্থিব উদ্দেশ্য যেন অন্তরে স্থান না পায়—এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট ইখলাস ও কবুলিয়তের জন্য দুআ করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
«وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ»
অর্থ: আমার চোখের শীতলতা নামাজের মধ্যে রাখা হয়েছে। [সুনানুন নাসায়ী, ৩৯৪০]
এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ»
অর্থ: বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়, যখন সে সিজদারত থাকে। [সহিহ মুসলিম, ৪৮২]
সুতরাং নামাজকে কেবল একটি দায়িত্ব হিসেবে না দেখে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত সিজদার সময় আল্লাহ তাআলার নিকট নিজের প্রয়োজন ও দুর্বলতার কথা পেশ করার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি নিম্নোক্ত দুআটি বেশি বেশি পড়া উচিত—
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার যিকর, আপনার শুকর এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করুন।”
অতএব, নামাজে মন না বসার কারণে নামাজে অবহেলা করা যাবে না; বরং নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি খুশু-খুযু অর্জনের চেষ্টা ও আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, এভাবে ধীরে ধীরে নামাজের প্রতি ভালোবাসা ও অন্তরের প্রশান্তি সৃষ্টি হবে।
واللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ