সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে অফিসের বিরতি, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে অনেকেই দিনে এত বেশি চা পান করেন যে তা ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস কমাতে চাইলে হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।
চায়ে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কিছু মানুষের ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই যারা দিনে বারবার চা পান করেন, তাদের জন্য পরিমিতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
চায়ের অভ্যাস কমানোর প্রথম ধাপ হলো নিজের দৈনিক চা পানের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। দিনে কত কাপ চা পান করা হচ্ছে তা কয়েক দিন নোট করে রাখলে অভ্যাস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে কাপের সংখ্যা কমানো যেতে পারে।
একবারে চা পান পুরোপুরি বন্ধ না করে ধাপে ধাপে কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, দিনে পাঁচ কাপ চা পান করলে প্রথমে তা চার কাপে, পরে তিন কাপে নামিয়ে আনা যেতে পারে। এতে শরীর পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে মানুষ ক্লান্তির কারণে চা পান করেন। তাই চায়ের পরিবর্তে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি লেবু পানি, ফলের রস বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর বিকল্পও বেছে নেওয়া যেতে পারে।
ঘুমের ঘাটতি থাকলে অনেকেই সতেজ থাকার জন্য বারবার চা পান করেন। তাই পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা চায়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ঘুমের রুটিন অনুসরণ করলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত চায়ের প্রয়োজন কম অনুভূত হতে পারে।
চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের অভ্যাস থাকলে সেটিও ধীরে ধীরে কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শুধু ক্যাফেইন নয়, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
চা অতিরিক্ত পানের বদলে প্রথমে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ এবং পরে ধীরে ধীরে একেবারে বাদ দেওয়া একটি ভালো উপায়। এভাবে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বেশ উপকারী হয়ে থাকে।
ডেস্ক রিপোর্ট