প্রথমত, আদম (আ.) এর জীবন থেকে তওবার গুরুত্ব জানা যায়। মানুষ ভুল করতেই পারে, তবে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “অতঃপর আদম তাঁর রবের কাছ থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।” সুরা বাকারা, আয়াত ৩৭।
দ্বিতীয়ত, নুহ (আ.) এর জীবন সত্যের দাওয়াতে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়। মানুষ গ্রহণ করুক বা না করুক, সত্যের আহ্বান অব্যাহত রাখা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ধৈর্য ধারণ করা ঈমানদারের অন্যতম গুণ। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, “আমি তো নুহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম এবং সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম হাজার বছর অবস্থান করেছিল। অতঃপর প্লাবন তাদের গ্রাস করে। কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।” সুরা আনকাবুত, আয়াত ১৪।
তৃতীয়ত, ইবরাহিম (আ.) এর জীবন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর নির্দেশ পালনে যে ত্যাগ করা হয়, তার উত্তম প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দান করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।” সুরা সাফফাত, আয়াত ১০৫।
চতুর্থত, ইয়াকুব (আ.) এর জীবন তাওয়াক্কুল ও আশাবাদের শিক্ষা দেয়। কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থা হারানো একজন মুমিনের কাজ নয়। তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন, “হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজখবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।” সুরা ইউসুফ, আয়াত ৮৭।
পঞ্চমত, আইয়ুব (আ.) এর জীবন ধৈর্য ও আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। অসুস্থতা, দুঃখ কিংবা যেকোনো সংকটে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করাই একজন মুমিনের করণীয়। পবিত্র কোরআনে তাঁর দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমাকে দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনিই তো সর্বাধিক দয়ালু।” সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৮৩।
ডেস্ক রিপোর্ট