প্রশ্ন : বর্তমানে গজল বা নাশীদকে ইসলামী সংগীত বলা হয় এবং এই ইসলামী সংগীতের নামে অনেক শিল্পী সেই সংগীতে মিউজিক ব্যবহার করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অনেক পরিচিত মুখ রয়েছে। এই ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?
উত্তর : বাদ্য-বাজনা শোনা নাজায়েয। তাই হামদ-নাতের সাথে বাদ্য-বাজনা থাকলে ঐ হামদ-নাত শোনা জায়েয হবে না। এছাড়া হামদ-নাত, গজলের সাথে এটা যুক্ত করা বেয়াদবিও বটে। তাই এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। তবে হামদ-নাত, গজল যদি সম্পূর্ণ বাজনা ও মিউজিক মুক্ত হয় এবং তার কথা যদি সহীহ হয়, শরীয়তের কোনো আকীদা বা নির্দেশের পরিপন্থী না হয় তাহলে তা বলা ও শোনা জায়েয।
উল্লেখ্য যে, যারা হামদ-নাত বা ইসলামী ধাঁচের গজল পরিবেশন করবে তাদের দায়িত্ব হলো এতে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা এবং গানের সুরে তা না বলা। তদ্রূপ এসব ক্ষেত্রে অন্যদের পরিভাষা যেমন কনসার্ট, গান ইত্যাদি শব্দও পরিহার করা উচিত। [মাসিক আলকাউসার, ডিসেম্বর ২০১৮]
সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৯০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৮৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৬৯০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৫; ফাতহুল কাদীর ৬/৪৮১; বাহরুর রায়েক ৭/৮৮; ইসলাম আওর মূসিকী, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.
পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন, করাচীর ফতোয়ায় বলা হয়েছে—
“মিউজিক এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা, ব্যবহার করা ও শোনা—সবই নাজায়েজ ও হারাম। তা সাধারণ গানের সাথে হোক কিংবা হামদ-নাতের সাথে। অতএব, কোনো নাত বা ইসলামী নাশীদের সাথে যদি মিউজিক সংযুক্ত থাকে, তাহলে তা পাঠ করাও নাজায়েজ, আর তা শোনাও নাজায়েজ।
তদ্রূপ, মিউজিক চাই বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি হোক কিংবা মুখে মুখে অনুকরণ করে তৈরি করা হোক—উভয় পদ্ধতিতেই নাতের সাথে যুক্ত করা বৈধ নয়; বরং নাতে মিউজিক ব্যবহার নবী কারীম ﷺ-এর পবিত্র নামের সাথে বেয়াদবির শামিল।’’ (ফাতাওয়া নম্বর 144107200945)
দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়ায় এসেছে, “যে নাশিদে (নাতে) সঙ্গীত বা বাদ্যযন্ত্রের মিশ্রণ থাকে, তা শরীয়তের দৃষ্টিতে শোনা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে, যে নাশিদ সঙ্গীত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং যাতে অশ্লীলতা, প্রেমমূলক কবিতা কিংবা পর-নারীর কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত নেই, এমন নাশিদ শোনা বৈধ।” (ফাতাওয়া নম্বর 636168)