রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজকে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু। তার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, হত্যা ও বিস্ফোরকসহ মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই রাজধানীর আদাবরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনকে দায়ী করে প্রচারণা চালানো হলেও তদন্ত, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্য অনুযায়ী, মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানই মূল অভিযুক্ত পারভেজের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে র্যাব ২ এর সদস্যরা মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে লেদুকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, লেদুর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। পরে ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ র্যাব ৪ এর হাতে গ্রেফতার হন। ওই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
র্যাব আরও জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ করে আসছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাবের তথ্যমতে, মনোয়ার হোসেন লেদুর বিরুদ্ধে মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২টি, দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা এবং একটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ২টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টি মামলা এবং একটি অভিযোগ রয়েছে। দারুস সালাম থানায়ও তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট