২৬ বছর আগের হত্যা মামলায় ১০৪ বছর বয়সে কারাগারে নুর মোহাম্মদ
ডাকাতি ও দ্বৈত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা ভোগে আত্মসমর্পণ, জামিন আবেদন নাকচ
- আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ১০:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ১০:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১১২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে ২৬ বছর আগে সংঘটিত ডাকাতি ও দ্বৈত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত তাঁর এই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। এ সময় দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার পর দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে মামলার বিচার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালীন হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান।
পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আসামিদের সাজা পুনর্বিবেচনা করেন। আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর মঙ্গলবার নুর মোহাম্মদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ শুনানি করেন। তিনি আদালতকে জানান, নুর মোহাম্মদের বয়স বর্তমানে ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন উল্লেখ করে আপিলের শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন আইনজীবী।
তবে আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নুর মোহাম্মদ এর আগে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক হন। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আদালতে আত্মসমর্পণের পর এবার তাঁকে উচ্চ আদালতের নির্ধারিত ১০ বছরের সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হলো।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।