হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক
গলায় আঘাতের চিহ্ন, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৩:৩৮:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৩:৩৮:৫১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে (২২) মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা করেছেন স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। পরে নিজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিনা আক্তার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সিয়াম পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিয়াম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে স্ত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসক শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিয়াম দ্রুত গাড়ি নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শাহিনার মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে সিয়াম নিজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত সিয়াম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। তাদের অভিযোগ, শাহিনাকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেছেন সিয়াম। শাহিনা ও সিয়ামের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, শাহিনাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টার ঘটনায় সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর