সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গঠিত একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের মাধ্যমে এই সহযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় দুইশ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সৌদি বাহিনীকে উন্নত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা ব্যবহারে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী লক্ষ্য চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটন এবার সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্ত হচ্ছে না। অতীতে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা ও যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহসহ সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল। বর্তমান সহযোগিতার মূল লক্ষ্য সৌদি সামরিক অভিযানের সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়ানো এবং এটিকে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্প্রসারণ হিসেবে পরিচালনা করা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রসর হওয়া এবং সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংঘাতের তীব্রতা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগরের একটি কৌশলগত বন্দর হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ায় বাব আল মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোন হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের শত শত কর্মকর্তা হুথিদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং বাব আল মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সৌদি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেও সতর্কতা রয়েছে। বারাক ওবামা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণ সহায়তা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বেসামরিক প্রাণহানির মতো ঘটনা আবার ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মার্কিন বাহিনীর ওপরও চাপ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েন এবং অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে সমন্বয় জোরদার করছে।