ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর শর্তে চুক্তির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল অর্থনৈতিক চাপ। ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তেলের দামের এই সম্ভাব্য উল্লম্ফন যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারত, যা ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।
এর পাশাপাশি সামরিক ব্যয়ও বড় চাপ তৈরি করে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরাসরি সামরিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে ইতোমধ্যে হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো ব্যয়বহুল রূপ নিতে পারত—যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউরোপীয় মিত্ররা দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে অবস্থান নেয়, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি না হয়। মিত্রদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফেরার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে।
এছাড়া ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশল নিয়েও উদ্বেগ ছিল। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেহরান শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
সবদিক বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন উপলব্ধি করে যে, সংঘাত দীর্ঘ হলে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হবে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি, সামরিক ব্যয়, আন্তর্জাতিক চাপ এবং নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা—এই সবগুলো কারণ মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার পথে হাঁটতে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট