স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর ও বিয়েতে কেউ বাধা দিতে পারবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট
ব্যক্তিগত পছন্দ, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ভারতীয় আদালতের
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১১:০১:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-০৮-২০২৬ ০৬:১২:৫৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করলে কিংবা নিজের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করলে তাতে বাবা কিংবা অন্য কেউ বাধা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে নিজেদের ধর্ম, বিয়ে ও জীবনধারা নিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার তাদের রয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের দুই বোন দিব্যা ভাটিয়া (জোয়া) ও অংশু ভাটিয়ার (আমিনা) করা একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এই পর্যবেক্ষণ দেন। ওই দুই বোন অভিযোগ করেন যে, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা পুলিশ কর্মকর্তাদের সহায়তায় তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, “আবেদনকারীরা প্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ সংবিধান-সুরক্ষিত মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।” আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, আবেদনে উপস্থাপিত বক্তব্য অনুযায়ী দুই নারী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।
আগামী ৬ আগস্ট এই দুই নারীকে আদালতে হাজির করার জন্য উত্তর প্রদেশ কর্তৃপক্ষ ও তাদের বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিন তাদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে আদালত নিশ্চিত হবে যে, তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল আছেন কি না এবং বর্তমানে তাদের জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে কি না। নির্ধারিত দিনে তাদের হাজির করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের হলফনামার মাধ্যমে জবাবদিহি করতে হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।