ইসরায়েলকে নাৎসিদের সঙ্গে তুলনা করা অপরাধ নয়, রায় জার্মান আদালতের
বাকস্বাধীনতার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে আপিলে নারীর খালাস
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১০:৫০:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১০:৫০:১০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির একটি উচ্চ আঞ্চলিক আদালত রায় দিয়েছেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে নাৎসি শাসনের সঙ্গে তুলনা করা নিজেই কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আদালতের মতে, যদি এমন তুলনা রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনার উদ্দেশ্যে করা হয় এবং একই সঙ্গে নাৎসি আদর্শ বা তাদের অপরাধের সমর্থন না থাকে, তাহলে তা বাকস্বাধীনতার আওতায় সুরক্ষিত হতে পারে। জার্মান আইনি ওয়েবসাইট বেক অনলাইনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নারী ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী তাঁর কয়েকটি পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নাৎসি বাহিনীর সহিংসতার তুলনা করেন। এসব পোস্টে তিনি নাৎসিদের স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির পতাকার ছবি ব্যবহার করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধানবিরোধী সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত রায়ে জার্মানির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সোয়াইব্রুকেনের উচ্চ আঞ্চলিক আদালত ওই নারীকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসরায়েলের নীতির সমালোচনার উদ্দেশ্যে প্রতীকগুলো ব্যবহার করেছেন এবং নাৎসি আমলের অপরাধ ও আদর্শ থেকে নিজেকে স্পষ্টভাবে দূরে রেখেছেন।
আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসরায়েলের নীতির সমালোচনার উদ্দেশ্যে প্রতীকগুলো ব্যবহার করেছেন এবং নাৎসি আমলের অপরাধ ও আদর্শ থেকে নিজেকে স্পষ্টভাবে দূরে রেখেছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি তুলনামূলক ছক প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নাৎসি শাসন ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তুলনা তুলে ধরা হয়। একটি বিভক্ত ছবিতে এক পাশে ইসরায়েলের পতাকা এবং অন্য পাশে আংশিক দৃশ্যমান স্বস্তিকা চিহ্নসহ নাৎসি পতাকা দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া আরেকটি পোস্টে একটি দেয়ালে স্টার অব ডেভিডের ভেতরে নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্ন অঙ্কিত ছিল। সেখানে দেয়ালের সামনে অবস্থান নেওয়া সেনাসদস্যদের গুলিবর্ষণের দৃশ্য এবং নিচে রক্ত প্রবাহের চিত্র দেখানো হয়। পোস্টে #freepalestine ও #gazaunderattack হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এর আগে লুডভিগশাফেনের একটি নিম্ন আদালত সংবিধানবিরোধী সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে ওই নারীকে ২ হাজার ৪০০ ইউরো, যা প্রায় ২ হাজার ৭৬৮ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, জরিমানা করেছিলেন। তবে আপিল শুনানিতে সোয়াইব্রুকেনের উচ্চ আঞ্চলিক আদালত সেই রায় বাতিল করেন। একই সঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং আইনের পরিধিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।