বুধবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই কথা জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হলেই কেবল মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০০। ইউএনএইচসিআর মনে করে, এই শরণার্থীদের জন্য নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়া এখনো নিরাপদ নয়।
তা সত্ত্বেও তাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করতে চায় মালয়েশিয়া সরকার। গত মাসে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার কথা জানিয়ে মালয়েশিয়া বলেছে, এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি মাস, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৫০০ শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মিন অং হ্লাইং। তারপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত এপ্রিলে এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হলেও এখনো অনেক দেশের স্বীকৃতি পায়নি তার সরকার।
মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টিসহ মোট ১২টি দেশের (বাকি দুটি পরিদর্শক দেশ -পূর্ব তিমুর ও পাপুয়া নিউগিনি) জোট আসিয়ান মিয়ানমারের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২১ সাল থেকে মিয়ানমারের নেতাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এ জোটের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে।
আসিয়ান মনে করে, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে যে এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেক বেসামরিক নাগরিকের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তার জন্য সে দেশের সামরিক বাহিনী ব্যাপকভাবে দায়ী। তবে মিয়ানমার শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মিয়ানমারের তখনকার জান্তা সরকারের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক ছিল মালয়েশিয়া।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আসিয়ানের চারটি দেশ লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন মিন অং হ্লাইং। এছাড়া চীন, ভারত এবং রাশিয়াও সফর করেছেন তিনি।
এরপর কি মালয়েশিয়া?
লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, ভারত এবং রাশিয়ার পর কি মালয়েশিয়াও সফর করবেন মিন অং হ্লাইং? বিষয়টি এখন সামরিক জান্তা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং-এর ওপরই নির্ভর করছে, কারণ, আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, আসিয়ান জোটের মতো মালয়েশিয়াও মিয়ানমারের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নয়।
তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনার জন্য এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকা দরকার যার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে কথা বলা যায়। তাই ‘‘আসিয়ানের মতোই আমরাও মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখতে চাই না'' বললেও এরপরই আনোয়ার ইব্রাহিম প্রশ্ন রাখেন, ‘‘তাহলে আমরা কার সঙ্গে আলোচনা করবো?'' মিন অং হ্লাইং-কে আমন্ত্রণের কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি এটা বোঝাতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি যে, আমরা বন্ধু হতে পারি, বাণিজ্য করতে পারি এবং মিয়ানমারকে গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের (শরণার্থীদের) ফিরিয়ে নিতে হবে।''
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘‘আমার মতে, মিয়ানমারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেয়ে এটিই শ্রেয়তর কূটনীতি। তাদের কে নেবে? আমরা তাদের কোথায় পাঠাবো? তাদের তো মিয়ানমারের নাগরিকত্বও নেই।''
‘চিৎকার-চেঁচামেচির চেয়ে কূটনীতি ভালো'
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার কথা স্বীকার করে তাদের প্রতি সহানুভূতি জানালেও আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে পারবে না, তাই ‘‘তাদের দেশে ফেরত পাঠানো প্রয়োজন।''
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তাদের দেশে ফেরানোর খরচ মালয়েশিয়া বহন করবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে আরো বেশি শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘‘আমার মতে, মিয়ানমারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে কেবল চিৎকার-চেঁচামেচি করার চেয়ে এটিই শ্রেয়তর কূটনীতি। তাদের কে নেবে? আমরা তাদের কোথায় পাঠাবো? তাদের তো মিয়ানমারের নাগরিকত্বও নেই।''
মিন অং হ্লাইং-এর সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আগে আমরা কোনো আলোচনা করিনি, কারণ, আমরা তাদের স্বীকৃতি দিইনি। কোনো কারণ ছাড়াই আমরা তাদের স্বীকৃতি দেবো না বা আলোচনা করবো না।''