৬১টি সদস্য দেশের প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপটির পক্ষে ১০৩টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও চীনসহ ছয়টি দেশ এর বিরোধিতা করে। এছাড়া ১৪টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। প্রস্তাবে বলা হয়, পিয়ংইয়ং পারমাণবিক কার্যক্রম গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারের প্রতি এ ধরনের সব কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
আইএইএ-র বার্ষিক সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বারবারই বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের ছোট বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার বিষয়টি ‘চূড়ান্ত’। যারা এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আশা করছেন, তারা ‘বোকা’।
সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইএইএ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার প্রচেষ্টার বিষয়ে ‘সেই পরিচিত ও হাস্যকর কথাবার্তা’ শোনা যাবে, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল।
নিষিদ্ধ অস্ত্র তৈরির দায়ে জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা উত্তর কোরিয়া ইয়ংবিয়ন, কাংসন এবং কুসং-এ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হয়। ২০০৯ সালে দেশটি আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখতে সংস্থাটিকে স্যাটেলাইট চিত্র এবং উন্মুক্ত তথ্যের উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি জানান, ইয়ংবিয়নে অতিরিক্ত একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা শনাক্ত করা হয়েছে; পিয়ংইয়ং আলোচনার পর স্থাপনাটি নিষ্ক্রিয় করার কথা বললেও ২০২১ সালে তা পুনরায় চালু করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাংসন সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে নির্মিত একটি বাড়তি অংশ সম্ভবত জানুয়ারি মাসে চালু হয়েছে, যা দেশটির অস্ত্র-মানের পারমাণবিক উপাদান তৈরির সক্ষমতার ‘আরও সম্প্রসারণ’ নির্দেশ করে। এতে ফেব্রুয়ারি মাসে কিম জং উন কর্তৃক ঘোষিত ‘জাতীয় পারমাণবিক শক্তি’ জোরদার করার ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’ এবং জুন মাসে তার ‘নব-উদ্বোধনকৃত পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা’ পরিদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।