পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টার ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একই মামলায় আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় মামলা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা কার্যালয়ের কর্মচারী মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং নুরুল ইসলাম (২০)। এছাড়া মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে যাচাই করা হয়। পরে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল বলে নিশ্চিত হন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। একই সময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত হওয়া তাজমিলুর রহমানকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মচারী বাদশা মাসউদ আলম ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। এই চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর থেকে ঢাকার একটি ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। যদিও তিনি নিয়োগের বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। সেই জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিষয়টি ধরা পড়ে।
আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেছেন যে, পলাতক নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিচালনা করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করতেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তি তৈরিরও অভিযোগ উঠেছে।
কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট