আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো এবং নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার প্রত্যাশা বাড়ছে। শ্রমজীবী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী—সব শ্রেণির মানুষের প্রধান চাওয়া, দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসা।
১১ জুন জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজেট মানেই তাদের কাছে বাজারদরের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য। নরসিংদী থেকে নিয়মিত রাজধানীতে কাজ করতে আসা এক রিকশাচালক জানান, প্রতিদিনের আয় থেকে খরচ মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে তার জন্য।
একইভাবে নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তি করের চাপ কিছুটা কমানো প্রয়োজন, কারণ করমুক্ত আয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়নি।
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে আসন্ন বাজেটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তাদের মতে, ব্যয় বাড়লেও দক্ষতা উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না, যা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সেবার মান উন্নয়নের প্রত্যাশাও রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। হাসপাতালগুলোতে সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে বাজেটে কার্যকর বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
ডেস্ক রিপোর্ট