যুদ্ধের ময়দানে এআই ব্যবহারের তীব্র নিন্দায় পোপ লিও, আসছে নতুন ইশতেহার
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:১৬:৩৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:১৬:৩৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের বৈশ্বিক প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। তিনি একে একটি ‘ধ্বংসাত্মক চক্র’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৩
শিগগিরই ভ্যাটিকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক ইশতেহার ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’ (মহিমান্বিত মানবতা) প্রকাশ করতে যাচ্ছেন চার্চের প্রথম মার্কিন পোপ। তার আগেই এই বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কেন এই বার্তা
সম্প্রতি প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক উঠেছে। শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘অ্যানথ্রোপিক’ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে এক আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। তারা তাদের মডেল ক্লড-কে স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র বা গণ নজরদারির কাজে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ চেয়েছিল এআই প্রযুক্তি সামরিক কার্যক্রমে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে। কিন্তু অ্যানথ্রোপিক তাদের নীতিতে বলেছে, মানুষ ছাড়াই এআই যেন হত্যা বা ব্যাপক নজরদারির সিদ্ধান্ত নেবে না।
এ প্রেক্ষাপটেই পোপ লিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধের ময়দানে মানুষের বিকল্প হিসেবে এআই-এর ব্যবহার সভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
সতর্ক করেছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩৩ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারমূল্য ২৫ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। যা পৌঁছাতে পারে ৪.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে ভ্যাটিকান ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, এই বিপুল অর্থনৈতিক মুনাফা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে চলে যাবে। যা সামাজিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এই বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার স্বার্থে এআই-কে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দিন দিন ফুরিয়ে আসছে।
মানুষকে ভুল পথে নিতে পারে এআই অ্যালগরিদম
পোপ লিও চতুর্দশ সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অ্যালগরিদম মানুষের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণাকে ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। তিনি ‘ডিজিটাল সাক্ষরতার’ ওপর জোর দিয়ে বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে কীভাবে অ্যালগরিদম তাদের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করে।
গত জানুয়ারিতে তিনি চ্যাটবটের অ্যালগরিদম তৈরির ‘স্বচ্ছতার অভাব’ নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। আর এপ্রিলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এআই ‘মেরুকরণ, সংঘাত, ভয় ও সহিংসতা’ উস্কে দিতে পারে। চার্চের কয়েক বছরের গবেষণার ফল ‘ম্যাগনিফিসেন্ট হিউম্যানিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।
পোপ লিও-র পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসও এআই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন, এআই বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোপ লিও-র এই ‘ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস’ বিশ্বপত্রটি ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিসের জলবায়ু বিষয়ক ঐতিহাসিক ইশতেহার ‘লাওদাতো সি’-এর মতোই প্রভাব রাখবে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস, ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।