নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বরফ ভর্তি পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক হলেন কাউসার আহমেদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. নাসির উদ্দিন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আহত শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার (১১) মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা-মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় সে নানার বাড়িতে থেকে রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করার সময় শিক্ষক কাউসার আহমেদ তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে বরফ ভর্তি পানির বোতল দিয়ে তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে ফেরার পর মুগ্ধর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রাতে কয়েকবার জ্ঞান হারানো, বমি এবং কান দিয়ে রক্ত বের হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানিয়েছে, তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার আহত শিক্ষার্থীর মামা মারুফ খান বাদী হয়ে খালিয়াজুরী থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ শিক্ষার্থীকে শাসনের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিক্ষার্থী অতিরিক্ত দুষ্টুমি করায় তাকে সামান্য শাসন করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা জানান, মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মৌখিকভাবে ছুটি নিয়েছিলেন এবং বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার শিক্ষককে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট