যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই পরাশক্তির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল বাণিজ্য, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রেসিডেন্ট বৈঠকে মিলিত হয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিভেদ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল বাণিজ্য, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধ।
এর আগে বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম পাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থল ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান শি জিনপিং। এই জমকালো অভ্যর্থনা বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যকার গভীর উত্তেজনাকেও কিছুটা আড়াল করে দেয়।
আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। পরে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করেন। পঞ্চদশ শতকে নির্মিত এই ধর্মীয় স্থাপনাটি স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যকার সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া ট্রাম্প ও শি একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভাতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার রাতে জমকালো এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প বেইজিং পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন ইলন মাস্ক এবং জেনসেন হুয়াং-সহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
ট্রাম্পের গাড়িবহর ‘বেইজিং ওয়েলকাম’ লেখা চীনা অক্ষরে আলোকিত আকাশচুম্বী ভবনের পাশ দিয়ে শহরে প্রবেশ করে।
রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে একটি ‘উষ্ণ আলিঙ্গন’ প্রত্যাশা করছেন। তিনি চীনা নেতার সঙ্গে নিজের শক্তিশালী ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর আস্থা রাখছেন এবং শিকে ‘লৌহমুষ্টি দিয়ে চীন শাসনকারী’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে কৃষিপণ্য, বিমান এবং অন্যান্য খাতে নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি। এ কারণেই তার প্রতিনিধিদলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ সম্মেলনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন।
বুধবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে চীন ইরানকে পারস্য উপসাগরে চলমান কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে চাপ দেবে।
রুবিও আরও বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিকভাবে এটি যেমন আমাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোর একটি। চীন একটি বড় ও শক্তিশালী দেশ, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। তবে এমন অনেক ক্ষেত্র থাকবে, যেখানে আমাদের স্বার্থ ও তাদের স্বার্থের মধ্যে সংঘাত তৈরি হবে।’
বাণিজ্যকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চান ট্রাম্প। বিশেষ করে চীনের মাধ্যমে আরও বেশি কৃষিপণ্য ও যাত্রীবাহী বিমান কেনার বিষয়ে তিনি সমঝোতা চান। পাশাপাশি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির পর শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য নিরসনের লক্ষ্যে একটি সমন্বয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শি জিনপিং বৈঠকে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন দিলেও এখনো তা সরবরাহ শুরু হয়নি।
দুই দিনব্যাপী এই শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দুই পরাশক্তির সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা।
আগামীকাল শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত ব্যক্তিগত বৈঠকের পর ট্রাম্পের বেইজিং ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, চীন তার প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে চাপ দেবে। তবে শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিনি সেই অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন। সূত্র: সিজিটিএন, এনডিটিভি
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক: বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা
- আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ১২:৫৩:০১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ১২:৫৩:০১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট