ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ , ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন জাতিসংঘের পরিদর্শকরা: আইএইএ প্রধান গ্রোসি প্রায় ২ বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত বেইজিংয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্যে ভাস্বর পবিত্র আশুরা: গুনাহ মাফের এক অনন্য সুযোগ,আজ এবং কাল রাখবেন রোজা। পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, স্পষ্ট করলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গৌরীপুরে বিজয় এক্সপ্রেসের তিন বগি লাইনচ্যুত, আহত ৭-৮ জন ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি, বন্ধ স্কুল-বিমানবন্দর ও রেল চলাচল ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস রাজধানীর জননিরাপত্তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন গজলডোবার সব গেট খোলা: তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দী ৭ হাজার পরিবার স্টারমার পদত্যাগ করবেন, দাবি ট্রাম্পের—‘গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দিল ডাউনিং স্ট্রিট ইসরায়েল লেবানন থেকে না সরলে কোনো আলোচনা নয়: ইরান বিশ্বে জ্বালানি উদ্বেগ বাড়লেও তেলের মজুতে স্বস্তিতে চীন দেশভাগ, অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বিষয়ে হুঁশিয়ারি মোদির তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, খুলে দেওয়া হয়েছে ৪৪ জলকপাট গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ১১ ডিজিটাল নকল ও ফলাফল হ্যাকিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী মিত্র ইসরায়েলকে কড়া ভাষায় সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা প্রশ্ন ফাঁস ছাড়াই এসএসসি শেষ, ফল ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী

চীন-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে কি আসছে নতুন ভারসাম্য?

  • আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৮:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০৮:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন
চীন-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি: এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে কি আসছে নতুন ভারসাম্য? সংগৃহীত ছবি

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জ্বালানি অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনার চাপে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
 

ট্রাম্পের সফরে প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতি দুই বৃহৎ অর্থনীতির পারস্পরিক নির্ভরতার দিকটি সামনে এনেছে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখনো গভীরভাবে জড়িত—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
 

বেইজিং বৈঠকে বাণিজ্য ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, বিরল খনিজ সম্পদ এবং ইরান সংকটের মতো বিষয় সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ার অনেক দেশ—যেমন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম—একদিকে চীনের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটে আবদ্ধ। এই দ্বৈত নির্ভরতা তাদের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা কঠিন করে তুলেছে।
 

নিরাপত্তা ইস্যুতেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে চীন আঞ্চলিক ঘেরাও কৌশল হিসেবে দেখছে। ফলে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
 

চীন সফরকে বেইজিং বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে নয়, বরং উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে। চীনা কর্মকর্তারা ‘সমতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে’ সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সমঝোতা মধ্যম শক্তির দেশগুলোর কৌশলগত স্বাধীনতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
 

বর্তমানে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে অনেকেই প্রতিযোগিতামূলক সহাবস্থান হিসেবে দেখছেন। শুল্কযুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা এবং চিপ নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করেছে। ফলে আলোচনার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে এলেও স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
 

এদিকে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, কোনো অস্থিরতা এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এলএনজির বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
 

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট দেখা দিলে এশিয়ার দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ঘাটতির ঝুঁকি বাড়বে। এরই মধ্যে কিছু দেশ কৌশলগত মজুত ব্যবহার, কর-ভর্তুকি সমন্বয় এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
 

চীন এই সংকটে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ ইরানের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বেইজিং যদি মধ্যস্থতা করতে সক্ষম হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তার কূটনৈতিক প্রভাব আরও জোরালো হতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা সীমিত। বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের বদলে এই বৈঠক থেকে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর মতো বাস্তবসম্মত অগ্রগতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহবাগে কক্ষ থেকে চিকিৎসক ফারাহ ফেরদৌসের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ জানাবে ময়নাতদন্ত

শাহবাগে কক্ষ থেকে চিকিৎসক ফারাহ ফেরদৌসের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ জানাবে ময়নাতদন্ত