যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তার পদত্যাগের মাধ্যমে স্টারমারের মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানো মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। এ ঘটনাকে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং অভিযোগ করেন, স্টারমারের নেতৃত্বে দল ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কার্যকর অবস্থানে যেতে পারবে না। তিনি লেখেন, যেখানে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, সেখানে নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং সরকার দিকহীন অবস্থায় এগোচ্ছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (formerly Twitter)–এ প্রকাশিত ওই চিঠিতে স্ট্রিটিং জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। এ অবস্থায় মন্ত্রিসভায় থাকা তার জন্য নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্রিটিং এখন লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলে জোর আলোচনা চলছে। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাননি।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে অন্তত ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। স্ট্রিটিং এ ধরনের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব বিভিন্ন বিতর্ক, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সমালোচনার মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পর অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লেবার পার্টির প্রায় ৮০ জন এমপি প্রকাশ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে স্টারমার পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার পরিচালনা অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির অন্তত ১১০ জন সংসদ সদস্য তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু না হলেও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট