ইরানের জাহাজ অবরোধে এলে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, উত্তেজনা বাড়ছে হরমুজে
- আপলোড সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ১০:২১:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৪-২০২৬ ১০:২১:৪৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের কাছে কোনো ইরানি জাহাজ এলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে। এই ঘোষণা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমায়, নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছে, যদিও তাদের কিছু দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান এখনো সক্রিয় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নৌযান অবরোধের সীমার কাছে এলে মার্কিন নৌবাহিনী মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যে কৌশল ব্যবহার করে, একই পদ্ধতিতে সেগুলো মোকাবিলা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, অবরোধ অমান্য করে কোনো জাহাজ এগিয়ে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তা ধ্বংস করা হবে এবং এই পদক্ষেপ হবে দ্রুত ও কঠোর।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব ধরনের নৌযান নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। এই অবরোধ কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে অবরোধ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার নির্দেশনা চূড়ান্ত হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে নাবিকদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর পূর্বাংশে আরব সাগর এলাকায় এই অবরোধ কার্যকর হতে পারে এবং তা সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজ আটক, পথ পরিবর্তন বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে নিরপেক্ষ দেশগুলোর স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলে বাধা না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান মার্কিন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একে ‘জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো যুদ্ধজাহাজ বর্তমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও এই উদ্যোগ নিয়ে দ্বিধা দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশ এই অবরোধকে সমর্থন করে না। একইভাবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রাশিয়াও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক এই নৌ অবরোধ ও পাল্টা হুঁশিয়ারি সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।