নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-কে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই এ গ্রেফতার হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বিক্ষোভ দমনে ভূমিকার অভিযোগে ওলির পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও আটক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ওলির দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডু-এর মাইতিঘর মণ্ডলসহ কোশী প্রদেশের ঝাপা জেলার দামাক এলাকায় শত শত নেতাকর্মী সমবেত হন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরাও। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ওলির মুক্তি দাবি করেন।
এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে প্রতিবাদকারীরা তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পুড়িয়ে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও বিক্ষোভস্থলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।
শনিবার ভোরে কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নিজ বাসা থেকে ওলি ও রমেশ লেখককে গ্রেফতার করা হয়। পরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৭৪ বছর বয়সী ওলিকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
পটভূমিতে রয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও পরে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তীব্র রূপ নেয়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন।
সরকারি তদন্তে গঠিত একটি প্যানেল ওই ঘটনায় ‘ফৌজদারি অবহেলা’র অভিযোগ এনে ওলি ও রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে বিচারের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।
কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, আইন অনুযায়ী গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ওলির বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটি কোনো প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত নয়।
ডেস্ক রিপোর্ট