মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনার মাঝে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বৃহস্পতিবার রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। এমনকি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমাও ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান-এর এই কঠোর অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধকালীন কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিসিসি মহাসচিব আল বুদেইর বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটতে চায়। যদিও জিসিসি দেশগুলো ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, তবুও তারা সামরিক পাল্টা জবাবের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর যে সম্ভাবনা ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছিলেন যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ আরব নেতারা ইরানের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। কিন্তু জিসিসির এই সম্মিলিত বার্তা সেই প্রত্যাশাকে নাকচ করে দিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং নিজেদের তেল স্থাপনাগুলোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতেই আরব দেশগুলো এই সংযত অবস্থান নিয়েছে। এই কূটনৈতিক মোড় পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের সমীকরণকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট