সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী এসব হামলার বিরুদ্ধে আংশিক বা পূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও বাকি চারটি উপসাগরীয় এলাকা বা জনবসতিহীন স্থানে আঘাত হানে।
অন্যদিকে, কুয়েতের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর শুয়াইখ লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে দেশটি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে কিছু পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নয়টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে বলে দাবি করা হয়।
ইসরায়েলেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, স্থানীয় সময় দুপুরের পর এসব হামলা চালানো হলে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
এদিকে বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে তারা মোট ১৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এর সঙ্গে আরও ১২টি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছিল, যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, সেসব অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য। যদিও নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সরকারি স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট