মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ১০টি বিশাল তেলের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে তেহরানের পক্ষ থেকে একটি ‘বড় উপহার’ এবং আলোচনার জন্য তাদের ‘আন্তরিকতার প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে আটটি জাহাজের কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু জাহাজ পাকিস্তানের পতাকাবাহী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প প্রথম এই ‘উপহারের’ কথা উল্লেখ করেন, যা নিয়ে শুরুতে অনেক পর্যবেক্ষক বিভ্রান্ত ছিলেন। ট্রাম্প তখন বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও একে কয়েক কোটি ডলার সমমূল্যের একটি অত্যন্ত মূল্যবান ছাড় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। মূলত কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই নমনীয়তাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প বর্তমানে তেহরানকে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তিতে’ পৌঁছানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন, যার লক্ষ্য হলো এই নৌপথকে স্থায়ীভাবে বাধামুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হওয়ায় এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক সপ্তাহের অবরোধের পর তেলের জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি ইঙ্গিত দেয় যে, ইরান যুদ্ধের ময়দান থেকে কিছুটা নমনীয় হয়ে আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প যখন এই ঘোষণা দেন, তখন এটিকে আমেরিকার কঠোর অবস্থানের মুখে ইরানের ‘সুর পরিবর্তনের’ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে তেলের জাহাজ চলাচলের এই বিশেষ অনুমতি ট্রাম্পের দাবির পক্ষেই জোরালো প্রমাণ দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং তেলের বাজারের অস্থিরতা কমাতে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসা অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার বিষয় হলো, এই ‘উপহারের’ বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে কি না বা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে বড় কোনো পরিবর্তন আসে কি না।
(সূত্র: রয়টার্স)
ডেস্ক রিপোর্ট