যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান, যেখানে আগ্রাসন বন্ধ, ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ একাধিক কঠোর শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে তেহরান এবং এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জবাবে ইরান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত ‘আগ্রাসী ও গুপ্তহত্যামূলক’ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সংঘাত না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ইরান আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ এবং ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
সূত্রটি জানায়, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অধিকার হিসেবে বজায় রাখতে হবে—এ বিষয়টিও শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, সেগুলোও বর্তমান শর্তাবলির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
একই সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাদের মতে, আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটনের একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য থাকতে পারে—যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ থামিয়ে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে উপস্থাপন, বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য সময় নেওয়া।
সূত্রটি আরও দাবি করেছে, অতীতেও—বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাতে—যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আড়ালেই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। ফলে এবারও একই কৌশল প্রয়োগের আশঙ্কা করছে তেহরান।
ডেস্ক রিপোর্ট