ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের জীবনে চরম অস্থিরতা ও আতঙ্ক নামিয়ে এনেছে। সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে একদিকে যেমন জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে প্রবাসীদের মাসিক আয়। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) সম্প্রতি কুমিল্লার বেশ কয়েকজন শ্রমিকের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, যেখানে দেখা যায়—মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মিসাইলের শব্দ আর দেশে থাকা স্বজনদের দুশ্চিন্তা প্রবাসীদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। ঋণের বোঝা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীরা জানিয়েছেন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা। দুবাইয়ে একটি চীনা কোম্পানিতে কর্মরত চান্দিনার বাসিন্দা নাসির জানান, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির কাছে লেবার ক্যাম্পে থাকায় প্রায়ই মিসাইলের বিকট শব্দে তাদের বুক কেঁপে ওঠে। একই চিত্র সৌদি আরবের জেদ্দায়। সেখানে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, যুদ্ধের প্রভাবে তার আয় ৮০-৯০ হাজার টাকা থেকে নেমে মাত্র ৩০ হাজারে ঠেকেছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের কাছে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। রিয়াদ ও অন্যান্য শহরে কর্মরত ইকবাল বা মেহেদী হাসানের মতো শ্রমিকদের আয় এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়; সারাদিন রুমের ভেতর অবরুদ্ধ থেকে তারা কেবল প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। একদিকে কর্মহীনতা, অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব—এই দ্বিমুখী সংকটে দিশেহারা প্রবাসীরা। দেশে থাকা পরিবারগুলো প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকলেও আর্থিক নিরুপায়তা তাদের স্বজনদের বিপদসংকুল প্রবাসে পড়ে থাকতে বাধ্য করছে। এই সংকট নিরসনে এবং প্রবাসীদের সুরক্ষায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেস্ক রিপোর্ট